দহন বিক্রিয়া (Combustion reaction) (পাঠ ৬ ও ৭)

অষ্টম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বিজ্ঞান - রাসায়নিক বিক্রিয়া | NCTB BOOK
1.7k
Summary

সালফার ও অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া:

  • প্রয়োজনীয় উপকরণ: লম্বা হাতলযুক্ত দহন চামচ, সালফার, স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার।
  • পদ্ধতি: সালফারকে তাপ দিলে এটি গলতে শুরু করে এবং নীল আগুনের শিখা দেখা যায়, যার ফলে সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং ঝাঁঝালো গন্ধ আসে।

ম্যাগনেসিয়াম ও অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া:

  • প্রয়োজনীয় উপকরণ: ম্যাগনেসিয়াম রিবন, চিমটা আংটা, লাইটার, স্পিরিট ল্যাম্প/বুনসেন বার্নার।
  • পদ্ধতি: ম্যাগনেসিয়াম রিবনের একটি মাথা আগুনে ধরলে এটি জ্বলতে শুরু করে এবং প্রজ্বলিত শিখা দেখা যায়। ম্যাগনেসিয়াম অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড তৈরি হয়।

মোমের দহন প্রক্রিয়া:

  • প্রয়োজনীয় উপকরণ: মোমবাতি, দিয়াশলাই।
  • পদ্ধতি: মোমবাতি জ্বালালে সময়ের সাথে সাথে তার আকার ছোট হয়ে যায়। মোম গলে বাষ্পীভূত হয়ে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো উৎপন্ন করে।

কাজ : সালফার ও অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ 

প্রয়োজনীয় উপকরণ : একটি লম্বা হাতলযুক্ত দহন চামচ, কিছু সালফার, স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার 

পদ্ধতি : তোমরা দহন চামচে কিছু সালফার নাও। স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার দিয়ে চামচটিতে তাপ দিতে থাক। কী দেখতে পাচ্ছ?

প্রথমে সালফার গলে গেল তারপর নীল আগুনের শিখা দেখতে পাচ্ছ এবং ঝাঁঝালো গন্ধ পেয়েছ। কারণ তাপ দেওয়ার ফলে সালফার বাতাসের অক্সিজেনের সাহায্যে দহন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি করেছে যার জন্য তোমরা ঝাঁঝালো গন্ধ পেয়েছ।

কাজ : ম্যাগনেসিয়াম ও অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ 

প্রয়োজনীয় উপকরণ : ম্যাগনেসিয়াম রিবন, চিমটা আংটা, লাইটার, স্পিরিট ল্যাম্প/ বুনসেন বার্নার 

পদ্ধতি : ম্যাগনেসিয়াম রিবনের একটি ছোট টুকরার (৮ সেন্টিমিটার) একমাথা চিমটা দিয়ে ধরো। চোখে নিরাপত্তা চশমা পরে নাও। রিবনের অন্য মাথাটি বুনসেন বার্নারের শিখার উপর ধরো। লাইটার দিয়েও এটি করা যায়। খুব ভালোভাবে লক্ষ করো কী ঘটছে?

রিবনে আগুন ধরে গেল এবং অত্যন্ত প্রজ্বলিত শিখাসহ জ্বলতে লাগল। এর কারণ হলো ম্যাগনেসিয়াম বাতাসের অক্সিজেনে দহন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পুড়তে থাকে আর তোমরা প্রজ্বলিত শিখা দেখতে পাও। এভাবে যখন সমস্ত ম্যাগনেসিয়াম পুড়ে শেষ হয়ে যায়, তখন আপনা আপনি শিখা নিভে যায়। শেষে তোমরা ছাই এর মতো কিছু দেখতে পাচ্ছ কি? এটি আসলে ম্যাগনেসিয়াম ও অক্সিজেন পুড়ে তৈরি হওয়া ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড।

কাজ : মোমের দহন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা 

প্রয়োজনীয় উপকরণ : মোমবাতি, দিয়াশলাই 

পদ্ধতি : দিয়াশলাই দিয়ে মোমবাতি জ্বালাও। খুব ভালোভাবে খেয়াল কর কী ঘটছে? সময়ের সাথে সাথে মোমবাতির আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে। বলতো এর কারণ কী? মোমবাতি জ্বালানোর ফলে উৎপন্ন তাপে মোম গলে যাচ্ছে। এই গলিত মোমের ছোট একটি অংশ ঠান্ডা হয়ে মোমের গা বেয়ে নিচে পড়ছে কিন্তু বেশিরভাগ অংশই সলতের মধ্য দিয়ে উপরে উঠে উৎপন্ন তাপে বাষ্পীভূত হচ্ছে। এই বাষ্পীভূত মোম দহন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করছে। এর ফলে তাপ ও আলোকশক্তি উৎপন্ন হচ্ছে।

Content added || updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...